বাংলাদেশের পাঠকদের, বিশেষ করে আশির ও নব্বইয়ের দশকের কিশোর-তরুণদের কৈশোর স্মৃতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হয়ে ওঠা সেবা প্রকাশনীর সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশনীর অন্যতম অংশীদার কাজী শাহনূর হোসেন স্বাক্ষরিত ‘সাময়িক কার্যক্রম স্থগিতের’ নোটিসটি সেবার ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা হয়। নোটিসটি পোস্ট করেন সেবা প্রকাশনীর উদ্যোক্তা প্রয়াত লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে কাজী মায়মুর হোসেনের স্ত্রী ও প্রকাশনীর উপদেষ্টা মাসুমা মায়মুর।
নোটিসে বলা হয়, “পাঠক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সেবা প্রকাশনীতে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি সম্প্রতি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমতাবস্থায় অডিট কার্যক্রম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সেবা প্রকাশনীর সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে।”
১৯৬৩ সালের মে মাসে কাজী আনোয়ার হোসেনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশের কিশোর সাহিত্য ও পেপারব্যাক সংস্কৃতিতে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করে। মাসুদ রানা, কুয়াশা ও তিন গোয়েন্দাসহ বহু জনপ্রিয় সিরিজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়।
চার বছর আগে কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর প্রকাশনীর দায়িত্ব নেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকে দুই ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন ও কাজী মায়মুর হোসেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
ফেসবুকে ঘোষণার পর দেওয়া এক ব্যাখ্যায় মাসুমা মায়মুর জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এবং গত দুই মাস ধরে তিনি বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করে তিনি একটি স্বতন্ত্র অডিট ফার্মের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নেন।
তিনি আরও বলেন, অডিট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থেই সেবা প্রকাশনীর সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি ও তার পরিবার নানা চাপ ও জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং তার স্বামী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মাসুমা মায়মুর বলেন, অডিট শেষ হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং আইনগতভাবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পাঠকদের উদ্দেশে অনুরোধ জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করতে।
তিনি ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করে “সেবা প্রকাশনী প্রাইভেট লিমিটেড” হিসেবে আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান এবং বলেন, সেবা প্রকাশনী পাঠকদের থেকে হারিয়ে যাবে না।
এদিকে ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদও জানিয়েছেন।
পূর্বের পোস্ট :