বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় জ্বালানি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত নেমে গেছে ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ ডলার করে বেড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প উপায়ে তেল পরিবহনের কারণে খরচ ও কার্যকারিতা—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার খবর এলেও তেলের দাম কমছে না।
তেলবাজারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ রপ্তানি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বৃদ্ধিও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মজুত কমে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। চলমান সংকট মোকাবিলায় মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মজুত পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে বিশ্ববাজার থেকে তেল কেনা শুরু করলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এতে তেলের দামের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।