কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়ন ও গতিপথে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখছেন—এমন ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী টাইম। এটি টাইমের চতুর্থ বার্ষিক ‘টাইম ১০০ এআই’ তালিকা।
তালিকায় প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের পাশাপাশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, শ্রম অধিকারকর্মী এবং সৃজনশীল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও স্থান পেয়েছেন।
এবারের প্রচ্ছদে রয়েছেন স্যাম অল্টম্যান, দারিও আমোদেই, জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক, মীরা মুরাতি, ল্যারি এলিসন, ফেই-ফেই লি, ইলিয়া সুতস্কেভার, এডি উ, অরবিন্দ কৃষ্ণ, প্যারিস হিলটন, জোসেফ গর্ডন-লেভিট, ডেভিড স্যাকস, ডোরিন বোগদান-মার্টিন, মারিয়ান ক্রুক এবং লিজ শুলার।
টাইম তালিকার ১০০ ব্যক্তিকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে—লিডার্স (নেতৃস্থানীয়), ইনোভেটর্স (উদ্ভাবক), শেপার্স (দিকনির্ধারক) এবং থিংকার্স (চিন্তাবিদ)।
‘লিডার্স’ শ্রেণিতে রয়েছেন ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা মার্ক চেন এবং প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান। এ ছাড়া রয়েছেন অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদেই ও ড্যানিয়েলা আমোদেই এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। টাইমের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মাস্ক একটি বড় এআই কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তালিকায় চীনের প্রযুক্তি খাতেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাইটড্যান্সের লিয়াং রুবো, আলিবাবার প্রধান নির্বাহী এডি উ এবং মুনশট এআইয়ের ইয়াং ঝিলিন।
টাইমের প্রধান সম্পাদক স্যাম জ্যাকবস বলেছেন, ২০২৬ সালের তালিকাটি এআই খাতের এমন একটি বছরকে প্রতিফলিত করছে, যেটি ছিল একই সঙ্গে অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ও বিভাজনমুখর।
তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি থিংকিং মেশিনস ল্যাবের প্রধান নির্বাহী মীরা মুরাতি, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগদান-মার্টিন এবং ওপেনএভিডেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল ন্যাডলার-এর বিস্তারিত সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছে টাইম।
তবে তালিকাটি প্রকাশের পরপরই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা এবং ডিপমাইন্ডের ডেমিস হাসাবিস কেন তালিকায় নেই। তাঁদের মতে, তালিকায় থাকা কয়েকজনের তুলনায় এ ব্যক্তিদের এআই অবকাঠামো ও মডেল উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
অন্যদিকে, অনেকে তালিকাটির পরিসরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু প্রযুক্তি ও করপোরেট নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শ্রম, নীতিনির্ধারণ এবং সৃজনশীল ক্ষেত্রের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এআইয়ের ওপর প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরেছে।