চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আগামী ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের স্থাপনা ও লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

বিক্ষোভে শ্রমিক নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। এনসিটি ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, এই খসড়া চুক্তির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার।

টার্মিনালগুলো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সকাল ১১টা থেকে বন্দর প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বন্দর রক্ষা কমিটি। বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে যোগ দেন। পরে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়লে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে কর্মসূচি শেষ হয়।

সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে না এলে আগামী ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। যেদিন চুক্তি করার চেষ্টা করা হবে, সেদিন থেকে বন্দর অচল করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ও লাভজনক এসব টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।

শ্রমিক নেতারা জানান, ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি নির্মাণ এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংযোজনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এই টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যায়।